বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প, এক দিন না একদিন হবেই। - Muhammad Johirul Islam Nahyan
বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প, এক দিন না একদিন হবেই!
-Muhammad Johirul Islam Nahyan
বাংলাদেশের ভেতরে-বাইরে অনেকগুলো ফাটল আছে। যেগুলো থেকে যেকোনো সময় বড় ভূমিকম্প হতে পারে।
হিমালীয় মুখ্য ফাটল বা Himalayan Subduction Zone
আজ থেকে সাড়ে ৫ কোটি বছর আগে ভারতীয় পাত ইউরেশীয় পাতকে সজোরে ধাক্কা দিলে হিমালয় জেগে ওঠে। ধাক্কার পর ভারতীয় পাত ইউরেশীয় পাতের নিচ দিয়ে গতিশীল হয়। এইভাবে প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার লম্বা হিমালীয় সাবডাকশন জোন গঠিত হয়। গতিশীল ভারতীয় পাতের চাপে ইউরেশীয় পাতে শক্তি জমা হয় যা আকস্মিকভাবে মুক্ত হলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এখান থেকে সর্বোচ্চ ৯.০ থেকে ৯.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।
চট্টগ্রাম-আরাকান ফাটল (Chittagong-Arakan Fault)
বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত সবচেয়ে লম্বা ফাটলটা হলো চট্টগ্রাম-আরাকান ফাটল যা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল ও মিয়ানমারের উপকূলে অবস্থিত। প্রায় ৭০০ কিলোমিটার লম্বা এই ফাটল সর্বোচ্চ ৮.৫ থেকে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প উৎপন্ন করতে পারে।
১৭৬২ সালে এই ফাটল থেকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলোর একটি অনুভূত হয়েছিল। সমস্ত শক্তি ছেড়ে দেওয়ায় তখন ৮.৫ থেকে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প উৎপন্ন হয় যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে যমুনা নদীর জন্ম হয়। এই ফাটলের অবস্থান চট্টগ্রাম বিভাগে তাই এখান থেকে ভূমিকম্প তৈরি হলে সেখানেই ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হবে।
ডাউকি ফাটল (Dauki Fault)
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তে অবস্থিত ফাটলটার নাম হলো ডাউকি। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার লম্বা এই ফাটল সর্বোচ্চ ৮.০ থেকে ৮.৩ মাত্রার ভূমিকম্প উৎপন্ন করতে পারে।
১৮৯৭ সালে এই ডাউকি ফাটল থেকে ৮.০ থেকে ৮.৩ মাত্রার গ্রেট আসাম ভূমিকম্প তৈরি হয়। ছোট সোনা মসজিদ, বাঘা মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ, কান্তজিউ মন্দিরসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মধুপুর ফাটল (Madhupur Fault)
ঢাকা শহরের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ফাটল হলো মধুপুর ফাটল যার দক্ষিণভাগ সরাসরি ঢাকা শহরের মধ্যে পড়ে। এই ফাটল দেশের তুলনামূলকভাবে ছোট ফাটলগুলোর একটি, তবু এটা সর্বোচ্চ ৭.৫ থেকে ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে। ২১ নভেম্বর ২০২৫-এর ৫.৫-৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পও এই মধুপুর ফাটল থেকে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যেহেতু দেশের ভেতরে ও আশেপাশে বড় বড় ফাটল আছে এবং তারা যথেষ্ট বড় ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে তাই বাংলাদেশে যে বড় ভূমিকম্প একদিন হবে সেটা খুবই স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭.৫ থেকে ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তবে কবে হবে, কোন ফাটল থেকে হবে, কত বড় ভূমিকম্প হবে এসব বৈজ্ঞানিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। তাই প্রস্তুতি এবং সচেতনতাই একমাত্র উপায়।
সূত্র: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS, GFZ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর)
Comments
Post a Comment